
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ নেই। তিনি বলেন, “নির্বাচনের কাজে যারা জড়িত, এখানে আওয়ামী লীগের দোসর বলতে কিছু নেই। তারা সবাই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত এবং প্রত্যেকেই খুব ভালো ও সৎ অফিসার।”
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বুধবার বিকেলে সিলেট নগরের পিটিআই মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সিলেট অঞ্চলের প্রস্তুতি তাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। তিনি জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এতে করে যেকোনো অনিয়ম বা নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হবে। তবে ড্রোন সব কেন্দ্রে ব্যবহার করা সম্ভব হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রয়োজন ও ঝুঁকি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মতবিনিময়সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও প্রস্তুতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।