
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন শিকদারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দীন এ নোটিশ জারি করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মু. আলমগীর হোছাইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতেই এ শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন শিকদার নির্বাচনী আচরণবিধি উপেক্ষা করে নিজ প্রচার গাড়িতে ব্যানার ব্যবহার করেছেন এবং সন্দ্বীপ পৌরসভা মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে পিভিসিতে প্রিন্ট করা বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি অনুমোদনের সীমা অতিক্রম করে ২০টির বেশি বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন এবং নির্বাচনী প্রচারণায় একসঙ্গে ১২টির বেশি মাইক ব্যবহার করেছেন।
নোটিশে এসব কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী আচরণবিধির ৭ এর (খ) ও ১৭ এর (১) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না অথবা নির্বাচন কমিশনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পাঠানো হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় সংশ্লিষ্ট কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দিতে জামায়াত প্রার্থীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী আলমগীর হোছাইন বলেন, জামায়াত প্রার্থী নিয়মিতভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তিনি দাবি করেন, ২০টির বেশি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, প্রচারণার কাজে পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সভা-সমাবেশে প্রায় ১৩টি মাইক ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেই তারা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন শিকদার অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার সব বিলবোর্ডই অনুমোদিত এবং সংখ্যাও নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে। পিভিসি ব্যানার ব্যবহারের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হতাশা থেকেই এ অভিযোগ করেছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সব অভিযোগের জবাব যথাসময়ে দেওয়া হবে।