
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মোল্লা, লাভলু মোল্লা, হামিদা বেগম, শুকুর আলী মোল্লা, ইয়াদালী মোল্লাসহ আরও কয়েকজন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার এক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ওইদিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ চুমুরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমানের বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই অনুষ্ঠানে চুমুরদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ইসরাফিল মোল্লার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আরেক সভাপতি প্রার্থী শাহাবুদ্দিন মোল্লার ভাই শহিদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার দুপুরে বাবলাতলা এলাকায় একটি পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়কে কেন্দ্র করে আবারও বিরোধের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা হামিদা বেগম উচ্চস্বরে স্পিকার বাজালে প্রতিবেশী লাভলু মোল্লা এতে বাধা দেন। এ সময় শাহাবুদ্দিন মোল্লার পক্ষের সমর্থক শুকুর আলী ও ইয়াদালীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলাকালে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন সমর্থক আহত হন।
চুমুরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহাগ মোল্লা বলেন, জনসভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তিনি জানান, ইসরাফিল মোল্লা ও শাহাবুদ্দিন মোল্লা—উভয়েই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় বিকেলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, মঙ্গলবার দুগ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার জের ধরেই বুধবার সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তিনি জানান, এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই সংঘর্ষ স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।