
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ১৪ জন জেলে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছেন। তবে এখনো ছয়জন জেলে দস্যুদের জিম্মায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিভিন্ন সময়ে মুক্তিপণ পরিশোধের পর এসব জেলে লোকালয়ে ফিরে আসেন।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, আট সদস্যের একটি জলদস্যু দল নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে। অপহরণের পর দস্যুরা প্রত্যেক জেলের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের দাবি জানায়। জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
জানা গেছে, মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেদের মধ্যে ইব্রাহিম, দিলীপ ও উজ্জ্বল প্রত্যেকে ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দেন। এছাড়া আইয়ুব আলী, আশিকুর রহমান ও হাফিজুর রহমান জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে পরিশোধ করে মুক্তি পান।
জেলেদের অভিযোগ অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জের মৌখালী গ্রামের সফিকুল ওরফে ‘ভেটো সফিকুল’ এবং আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এই দস্যু দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মুক্তিপণের পরিমাণ কম দেওয়ায় রাজেত আলী নামের এক জেলেকে এখনো ছাড়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া মীরগাং গ্রামের মুজিবুর রহমান, হরিনগর গ্রামের নজরুল ইসলামসহ মোট ছয়জন জেলে এখনো দস্যুদের জিম্মায় রয়েছেন। তাদের পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে এসব জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। পরে গত ২২ জানুয়ারি রাতে বন বিভাগের আওতাধীন মামুন্দো, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীসহ কলাগাছিয়া খাল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে জলদস্যুরা।
অপহরণের পর দস্যুরা একটি বিকাশ নম্বর সরবরাহ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। মুক্তিপণ আদায়ের পর একে একে কয়েকজন জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৪ জন জেলে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং বাকিদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সুন্দরবনে জেলে অপহরণের এ ঘটনা আবারও বনাঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।