
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বিশ্বের ১২ লাখ রোজাদার মানুষের জন্য বিনামূল্যে ইফতার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির বার্ষিক রমজান কর্মসূচি ‘জুদ’ (Jood)–এর আওতায় এই ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, এবারের রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ নগরী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৯ লাখ ইফতার বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের ৫১টি দেশে আরও ৩ লাখ ইফতার পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে সংস্থাটির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ সুলতান বিন খাদেম বলেন, ‘ইফতার ফর ফাস্টিং পারসন্স’ কর্মসূচিটি এখন কেবল সূর্যাস্তে খাবার বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক সংহতি, মানবিক সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, রমজান মাসে প্রতিদিন হাজারো শ্রমজীবী মানুষ, স্বল্প আয়ের পরিবার ও অসহায় ব্যক্তিরা এই ইফতার কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে থাকেন। এর ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকটাই লাঘব হয়।
শারজাহ অঞ্চলে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে ইফতার পৌঁছে দিতে কৌশলগতভাবে বিভিন্ন বিতরণ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে, যাতে সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে রোজাদাররা ইফতার গ্রহণ করতে পারেন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর খাদ্যসংকটে থাকা ও কঠিন জীবনযাপনে থাকা জনগোষ্ঠীর সহায়তায়। এ কার্যক্রম সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় মানবিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
আব্দুল্লাহ সুলতান বিন খাদেম এই মানবিক উদ্যোগে দাতাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইট, এসএমএস ডোনেশন, কল সেন্টার, স্মার্ট ডোনেশন স্ক্রিন, মোবাইল অ্যাপ এবং অ্যাপল পে ও স্যামসাং পের মতো আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে অনুদান প্রদান করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, অনুদানের পরিমাণ ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, প্রতিটি সহায়তাই এই কর্মসূচির পরিধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দাতারা রমজানজুড়ে শত শত রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াবে অংশীদার হতে পারবেন।
শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। রমজানের এই ইফতার কর্মসূচিকে সংস্থাটির অন্যতম বৃহৎ ও তাৎপর্যপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।