
সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে এক মাসের মধ্যেই কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার নিউ মার্কেট সংলগ্ন ‘মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে’ গণভোটের পক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, গত দেড় বছর দায়িত্বে থাকার সময় তিনি কুমিল্লার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে কাজ করেছেন। কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনিক, নীতিগত ও কাঠামোগত যেসব ধাপ প্রয়োজন ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এখন যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক, কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা না করে উপায় নেই।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময় কুমিল্লাকে পরিকল্পিতভাবে অবহেলা করা হয়েছে। “কুমিল্লাকে নিয়ে তার এক ধরনের অদৃশ্য কষ্ট ছিল। সেই কারণে নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প তো দূরের কথা, চলমান প্রকল্পগুলোকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। যেখানে পাকা রাস্তা ছিল, কাজ শেষ হওয়ার আগেই তা আবার মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে,” বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, বাংলাদেশ গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গেছে। গুম, খুন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “১৭ বছরের অভিজ্ঞতার পরও গত ১৭ মাসে ক্ষমতায় না থেকেও একটি দল আবার সেই দমনমূলক আচরণ ফিরিয়ে এনেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জনগণের উচিত ভোটাধিকার প্রয়োগের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।”
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান এবং বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া মানেই কুমিল্লাসহ সারাদেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়া।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউছুফ সোহেল, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তরিকুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সহিদ এবং এনসিপি দেবীদ্বার উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।