
দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারে। আমদানি শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই দিনাজপুরের হিলি বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে চালের দাম আরও কমতে পারে।
গত ২১ জানুয়ারি ডিপি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের দুটি চালবোঝাই ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় চালের দামে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) হিলির চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্বর্ণা জাতের চাল যা আগে প্রতি কেজি ৪৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন ৪৩ টাকায় নেমে এসেছে। সরু চালের দাম কমে ৭৩ টাকা থেকে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে শম্পা কাটারি জাতের চালের দাম। এই চাল আগে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৭১ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ৬২ থেকে ৬৩ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক আসলাম হোসেন বলেন, ‘সারা দিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। মোটা চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক সমস্যায় পড়েছিলাম। তবে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হওয়ার পর দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক দিন আগেও ৪৬ টাকার নিচে মোটা চাল পাওয়া যাচ্ছিল না, এখন ৪৩ টাকায় পাচ্ছি।’
আরেক ক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে সরু চালের দাম ৭০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় চাল কেনা কমিয়ে দিতে হয়েছিল। এখন দাম কমতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও ৭৩ টাকায় কিনেছি, এখন ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শম্পা কাটারি চালের দাম তো আরও বেশি কমেছে।’
চাল বিক্রেতা অনুপ বসাক জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে আগে চালের দাম বেড়েছিল। আমদানি শুরু হওয়ায় মোকামে চালের সরবরাহ বেড়েছে। ফলে পাইকারি পর্যায়ে দাম কমেছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন কম দামে চাল কিনতে পারছি, তাই কম দামে বিক্রিও করছি। সরকার এমএমএসের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু করায় বাজারে চাহিদাও কিছুটা কমেছে।’
চাল আমদানিকারক দীনেশ পোদ্দার বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে গত ১৮ জানুয়ারি সরকার ২৩২ জন আমদানিকারককে দুই লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয়। ২১ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আসা শুরু হয়েছে। এবার আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়ায় ধীরে ধীরে আমদানির পরিমাণ বাড়বে এবং বাজারের অস্থিরতা কমে যাবে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, সর্বশেষ গত বছরের ৩০ নভেম্বর চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর অনুমতির অভাবে আমদানি বন্ধ ছিল। নতুন অনুমতি পাওয়ার পর ২১ জানুয়ারি থেকে আবার নিয়মিতভাবে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।