
ডাকসু নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বরগুনার সাবেক জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসানকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পাথরঘাটা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পাথরঘাটা উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও রুপধন বন্দর আমেরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামীম আহসানকে আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পাথরঘাটা উপজেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কবির এবং সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী বাজারে বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা মো. শামীম আহসান।
ওই বক্তব্যে তিনি ডাকসু প্রসঙ্গে কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও বেফাঁস মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বক্তব্য শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষকতার আদর্শ ও নৈতিকতার পরিপন্থি।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি মনে করে, একজন শিক্ষক ও শিক্ষক সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে সংগঠনের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে মো. শামীম আহসানকে পাথরঘাটা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও শামীম আহসানের বিরুদ্ধে একই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মঙ্গলবারই তাকে বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি পদসহ দলটির সদস্য (রুকন) পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই ইস্যুতে রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠন—উভয় জায়গা থেকেই বহিষ্কৃত হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক সমাজের একটি অংশ মনে করছে, শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যে আরও সংযমী ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শামীম আহসানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।