
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও জামায়াত নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশীদের ছেলে রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফিকে তলব করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
মঙ্গলবার কমিটির চেয়ারম্যান ও নাচোল সিভিল জজ মো. মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই তলব আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টি বুধবার ভোরে গণমাধ্যম কর্মীরা নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটী এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশীদ এবং তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়ার উপস্থিতিতে তাদের ছেলে রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি একটি বেআইনি জটলা সৃষ্টি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আজিজুল হক নূরের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, নূরের গলা চেপে ধরে শূন্যে তুলে মারধর করা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তার পরিবারের সদস্যরা একই দিন সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসমাবেশ ও প্রচারণায় অংশ নেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি অভিযোগ ও প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে জানায়, ঘটনাগুলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর ৩, ১৫ ও ২৭ বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ প্রেক্ষিতে কেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে না—সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় নাচোল সিভিল জজ আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফিকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারিক কমিটি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এখনো নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির তলব নোটিশ পাননি। নোটিশটি হাতে পেলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানান।