
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) সংসদীয় আসনে কেতলি প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং তার পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মী ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এ অভিযোগে তিনি বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের নাম উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বগুড়া-২ আসন থেকে যেন তিনি নির্বাচন করতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা ইস্যু তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। একটি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, সেখানে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে ব্যবসাটি চালানো সম্ভব হয়নি।’
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মান্না বলেন, দীর্ঘ সময় স্বৈরাচারী শাসনের কারণে তিনি এলাকায় যেতে পারেননি এবং দুই বছর কারাবরণও করেছেন। এ সময় ব্যবসাটি অন্যদের হাতে থাকায় বড় অঙ্কের ঋণ সৃষ্টি হয়। জুলাই আন্দোলনের পর দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই প্রায় দুই কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেন তিনি। এরপর ঋণ পুনঃতফসিল করা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রি-শিডিউল প্রক্রিয়া চলাকালে স্থানীয় ব্যাংক শাখা থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে মামলা করার নোটিশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘তখনই বুঝেছিলাম এটি একটি চক্রান্ত।’ পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় এবং ঋণ পুনঃতফসিল হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় আদালতে যেতে হয়, এতে সময় নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।
মান্না অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এলাকায় ফিরে তিনি দেখতে পাচ্ছেন—তার পক্ষে যারা কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভোটার, কৃষক, গৃহবধূ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি এলাকায় শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক ঐক্যের নারী সংগঠনের সদস্যরা সোমবার কেতলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গেলে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ও দেউলি এলাকায় তাদের পথরোধ করা হয়। হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়। এমনকি থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মান্না আরও দাবি করেন, ব্যবসায়ীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘তোমাকে অমুক মিছিলে দেখেছি, ১২ তারিখের পর ব্যবসা করতে পারবে না—এমন কথাও বলা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তিনি পরিস্থিতির পরিবর্তন চান, যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ‘যে জিতবে, সে জিতবে। মানুষ যেন ভয় ছাড়া ভোট দিতে পারে এবং ভোটের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়—এটাই গণতন্ত্র।’
নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানান তিনি।