
উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে রাশিয়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডেসায় রাতভর ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
পরে একটি ড্রোন উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আঘাত হানে। ড্রোনের আঘাতে ট্রেনটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। ইউক্রেনের প্রসিকিউটরদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রেনটির শেষের দুটি বগিতে ড্রোনটি আঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক যাত্রীবাহী ট্রেনে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে চালানো প্রতিটি হামলাই সন্ত্রাসবাদ।
এদিকে রাশিয়ার হামলার ফলে তীব্র শীতের মধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। কিয়েভের জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহাল জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে রাশিয়ার হামলার পর রাজধানী কিয়েভে সাত লাখের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে ওডেসায় রাশিয়ার ৫০টির বেশি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানান ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিটি রাশিয়ান হামলা চলমান আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।’
জেলেনস্কি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো, যাতে এ ধরনের হামলা বন্ধ করা যায় এবং একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি হয়।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও জনবহুল এলাকায় হামলার ঘটনা বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মন্তব্য করছেন। যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলার এ ঘটনা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।