
বরিশালে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে এক শ্রমিক নেতাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল–ঢাকা মহাসড়কের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শ্রমিক নেতা হলেন বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় বাস টার্মিনাল এলাকায় একদল ছাত্র-জনতা তাকে ঘিরে ধরে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে স্লোগান দিতে দিতে মারধর করে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নথুল্লাবাদ পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহাদাত হোসেন লিটনকে হেফাজতে নেন। পরে তাকে এয়ারপোর্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বাস শ্রমিকদের একটি অংশের অভিযোগ, শাহাদাত হোসেন লিটন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত এবং তার আগে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও দাপট দেখিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একদল মানুষ শাহাদাত হোসেন লিটনকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং মারধর করছে। এ সময় ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
তবে পুরো ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে দাবি করেছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতা শাহাদাত হোসেন লিটন নামে এক শ্রমিক নেতাকে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। তাকে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।’
ঘটনার পর নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।