
৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত একযোগে দেশের আটটি বিভাগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, এবারের বিসিএসে অংশ নিতে মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন।
পিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আসন বিন্যাস, সময়সূচি এবং পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশনা জারি করেছে কমিশন।
পিএসসি জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কিছু পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে হলের নাম মুদ্রিত হয়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের দ্রুত কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) অথবা টেলিটকের ওয়েবসাইট (bpsc.teletalk.com.bd) থেকে পুনরায় প্রবেশপত্র ডাউনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের হলের নাম ও কক্ষ নম্বর জানাতে ইতোমধ্যে এসএমএস পাঠানো শুরু হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী যদি বার্তা না পান বা বিস্তারিত জানতে চান, তবে পিএসসির ওয়েবসাইট অথবা টেলিটকের ‘আসন বিন্যাস ও সময়সূচি সার্চ মডিউল’-এ গিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে তথ্য জানতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। ওই সময়ের পর কেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং কাউকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত উত্তরপত্র (ওএমআর) বিতরণ করা হবে। এ সময় পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের সেট নম্বর (১, ২, ৩ ও ৪) প্রশ্নপত্রের সেট নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টায় প্রশ্নপত্র বিতরণ শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা শুরু হবে। দুপুর ১২টায় পরীক্ষা শেষ হবে। উত্তরপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী কক্ষ ত্যাগ করতে পারবেন না।
পরীক্ষাকেন্দ্রে বই, খাতা, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, সব ধরনের ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডসদৃশ বস্তু, গয়না, চাবি ও ব্যাগ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হলের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। নিষিদ্ধ কোনো সামগ্রী পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিএসসি জানিয়েছে, সময় দেখার জন্য প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে দেয়াল ঘড়ি থাকবে। পরীক্ষার সময় কানে কোনো আবরণ রাখা যাবে না এবং দুই কান খোলা রাখতে হবে।
২০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে। ওএমআর শিটে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও উত্তর পূরণে কালো কালির বল পয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে। কোনো কাটাকাটি বা ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না।
এদিকে বিভিন্ন মহলের পরীক্ষা স্থগিতের দাবির মধ্যেও পিএসসি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ৫০তম বিসিএস থেকেই এই নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ১২ মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।