
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাকে ছাড় দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জাভেদ রাসিন বলেন, “না, না—এটা ছাড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। যদি ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন থাকত, তাহলে এখানে নতুন করে শাপলা কলির মনোনয়ন দেওয়া হতো না।” তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৯ আসনকে তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বলেই এই আসনে জয় নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাভেদ রাসিন বলেন, “১২ তারিখ পর্যন্ত, এমনকি ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দিনকে দিন এই প্রচেষ্টা আরও বাড়বে।” তিনি দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল ঘরে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই তাঁরা মাঠে রয়েছেন।
শুরু থেকেই এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কবির আহমদ প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ায় অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় জাভেদ রাসিনের প্রচার কার্যক্রম কিছুটা দেরিতে শুরু হয়। আচরণবিধি অনুযায়ী গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা প্রচারে নামলেও তিনি মাঠে নামেন ২৫ জানুয়ারি থেকে।
দেরিতে প্রচার শুরু হলেও ভোটারদের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন জাভেদ রাসিন। তিনি বলেন, “ভোটারদের কাছ থেকে আমি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। সবাই পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। ৫ আগস্টের পরে আমরা যে পরিবর্তনের আশা করেছিলাম, সেটাকে স্থায়ী রূপ দেওয়া যায়নি। এখন ভোটাররাও সেই স্থায়ী পরিবর্তন দেখতে চায়।”
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে এনসিপির এই নেতা বলেন, “১২ তারিখে শাপলা কলির পক্ষে গণজোয়ার, গণরায় ও গণবিপ্লব হবে।”
ঢাকা-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের তৎপরতা কম—এমন আলোচনার জবাবে জাভেদ রাসিন বলেন, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের নেতা-কর্মীরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আমার সঙ্গে মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেরিতে শুরু করলেও তাঁর প্রচারণা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে এবং এই পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
ঢাকা-৯ আসনে জাভেদ রাসিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল প্রতীক) তাসনিম জারা। তাসনিম জারা আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন।