
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, নির্বাচনকে একটি বিপরীত দিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, নির্বাচন ও সংস্কারকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।
মঙ্গলবার বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের শুঁটকিকান্দি এলাকায় নির্বাচনী জনসভা ও গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, শুরু থেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য ও সন্দেহ তৈরি করা হয়েছে। একপর্যায়ে বোঝা গেছে, নির্বাচনকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার একটি চেষ্টা চলমান। তাঁর ভাষায়, “আমরা যারা বিচার ও সংস্কারের কথা বলেছি, আমরা বলেছি নির্বাচন তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তারা বাংলাদেশের বিরোধিতা করছে।”
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও গণভোট ছাড়া কোনো ধরনের সংস্কার সম্ভব নয়। সংবিধান পরিবর্তন বা কাঠামোগত সংস্কারের জন্য নির্বাচন অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সংস্কারের কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার নানা প্রচেষ্টা দেখা গেছে। তবে জনগণের চাপে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তাঁর দাবি, এখনো দেশি-বিদেশি কিছু শক্তি নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাতে পারে।
ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাকে তাঁদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের আত্মত্যাগের মূল শিক্ষা হলো জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, “আমরা মানুষের ভোটে জিততে চাই। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাব।”
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও ভোটব্যবস্থা নিয়ে দেশ সংকটে রয়েছে। তাঁর মতে, কেউ যদি ভোটব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ বা নস্যাৎ করার চেষ্টা করে, তা জনগণ মেনে নেবে না।
পরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের কানাইনগর এবং দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের দড়িয়াদৌলত, কদমতুলী, শুঁটকিকান্দি, নতুন কদমতুলী, তাতুয়াকান্দি, মরিচাকান্দি ও বাখরনগর গ্রামে গণসংযোগ ও পথসভা করেন তিনি।
পথসভায় জোনায়েদ সাকি বলেন, অতীতে ভোটের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার যেন প্রায় শতভাগ ভোটার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, “ভোট দিতে যেতে হবে। এটাই আমাদের শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে ধানের শীষই যুগপৎ আন্দোলনের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই জোট সরকার গঠন করবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
নির্বাচনী সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসানসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।