
শরীয়তপুর-১ (সদর–জাজিরা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহমেদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন এবং এ সময় সড়ক পরিবহন আইনও অমান্য করেছেন।
মঙ্গলবার সকালে জাজিরা পৌর এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কে এ প্রচারণা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সাঈদ আহমেদ নিজেই বহরের প্রথম মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য মোটরসাইকেলগুলোতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ধারা ৯(ক) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাঁদের পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহনসহ মিছিল, শোভাযাত্রা বা শোডাউন করতে পারবেন না। সে হিসেবে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে প্রচারণা স্পষ্টভাবে আচরণবিধির পরিপন্থী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-১ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি দিনভর জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাজিরা টিঅ্যান্ডটি মোড় থেকে জাজিরা বাজারের দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বের হন, যেখানে নেতৃত্ব দেন প্রার্থী নিজেই। এ সময় অন্তত ২০টি মোটরসাইকেল বহরে অংশ নেয়।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সাঈদ আহমেদ একটি মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন এবং পেছনে আরেক ব্যক্তি বসা। তাঁদের কারও মাথায় হেলমেট নেই। একইভাবে অন্য মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীদের অনেকের মাথায়ও হেলমেট দেখা যায়নি।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ক্ষেত্রে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বলেন, দিনভর ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, “প্রচারণার শুরুতে শখের বসে প্রার্থী মোটরসাইকেল চালিয়েছেন। এটি যে আচরণবিধি লঙ্ঘন, তা আমাদের জানা ছিল না। জানলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতাম।”
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করা যাবে না—এটি আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।