
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমনের অপেক্ষায় রাজধানীর উত্তরায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে জনসভাস্থল। ঢাকা-১৮ আসনের বহুল প্রতীক্ষিত এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুর এবং সন্ধ্যা ৭টায় উত্তরার জনসভায় তারেক রহমানের পৌঁছানোর কথা থাকলেও ময়মনসিংহের কর্মসূচি দীর্ঘ হওয়ায় সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তন আসে। তবে সময় পরিবর্তন হলেও নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
এর আগে ময়মনসিংহে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানকার কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে গাজীপুরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর সর্বশেষ গন্তব্য হিসেবে তিনি উত্তরার জনসভায় যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বিকেল গড়াতেই উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সভাস্থল পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকায় রঙিন হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। চারদিকে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে উত্তরা।
তারেক রহমানের আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। আয়োজকদের দাবি, নেতা মঞ্চে ওঠার আগেই এই জনসভা রেকর্ড সংখ্যক জনসমাগমে রূপ নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই জনসভা ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী মাঠে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি প্রদর্শন। দীর্ঘদিন পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে তারেক রহমানের সরাসরি নির্বাচনী বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের সরাসরি নির্বাচনী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই জনসভা উত্তরার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের জনসভা আগামী নির্বাচনে দলীয় অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
এ সময় তিনি একটি মহলকে উদ্দেশ করে অভিযোগ করেন, ঢাকা-১৮ আসনে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “মিথ্যাবাদীদের বিশ্বাস করবেন না। আমরা রাজনীতি করি মানুষের কল্যাণের জন্য। জনগণ যদি কাউকে মিথ্যাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে, তাহলে ভবিষ্যতে আর সুযোগ দেবে না।”
জনগণের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “গত ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় রাজনীতি করছি। দুর্যোগ ও সংকটে আপনাদের পাশে থেকেছি। রাজনীতি করতে গিয়ে ৩২৯টি মামলা মোকাবিলা করেছি, জেল খেটেছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি— শুধু আপনাদের কথা ভেবে।”
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অপপ্রচার চালানো হলে জনগণ যেন আগে যাচাই করে নেয় এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
জনসভা শুরুর অপেক্ষায় পুরো উত্তরায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।