
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি তাদের প্রার্থীদের ওপর আঘাত আসে, তবে তার পাল্টা আঘাতও আসবে। তিনি বলেন, এনসিপি সহিংস পরিবেশ চায় না, তবে বারবার হামলার শিকার হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্গত ফকিরাপুলে দলটির স্থানীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মঙ্গলবার হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গেলে সেখানে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তার ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া গত সোমবার ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদিবের ওপরও বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আঘাত আসে, তাহলে পাল্টা আঘাত দেওয়া হবে। এক দলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদের ওপরেও ডিম পড়বে। আমরা এ ধরনের পরিবেশ চাই না।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ দল ও জোট ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। এতে করে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করে, তাহলে আমাদের যা করণীয়, আমরা তা-ই করব।” তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এনসিপি কোনো ধরনের সহিংসতা উসকে দিতে চায় না।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা যদি আওয়ামী লীগের মতো সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠ থেকে সরাতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপনাদের পার্থক্য কী?” তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার আশায় নির্বাচনী মঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণ আর কোনো সন্ত্রাসী রাজনীতি মেনে নেবে না।” নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এনসিপির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।