
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন মায়ের গায়ে হাত তোলা মানে শুধু একজন নারীকে আঘাত করা নয়, বরং এটি পুরো জাতির ওপর আঘাত। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না এবং কোনোভাবেই তা বরদাশত করা হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে যশোর ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল একদিকে নারীদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধার কথা বলছে, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত তুলছে। তিনি বলেন, যারা বর্তমানে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে দেশকেও নিরাপদ রাখতে পারবে না। যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রচারে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হাতে আইন তুলে নেওয়ার কোনো অধিকার নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, আল্লাহ যদি জামায়াতে ইসলামিকে সুযোগ দেন, তাহলে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। যশোরকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হবে ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি জনগণের সব যৌক্তিক দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশকে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কোনো বিকল্প নেই। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে নতুন বাংলাদেশের পথ সুগম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে অন্যায়, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. গোলাম রছূল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা।