
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে দেশের ক্রিকেট ও সম্মানের জন্য ‘চরম অপমান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরিচিতি ও সম্মান বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ছেলেটা ক্রিকেট বিশ্বে আপনাদের আলোকিত করেছে, বাংলাদেশকে আলোকিত করেছে—মোস্তাফিজ। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে যেতে দিল না। দেশের প্রতি, ক্রিকেটের প্রতি এটা চরম অপমান।”
জামায়াত আমির আরও বলেন, এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, বিসিবির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—খেলাটি শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হলে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে। তবে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আইসিসির উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এখনো সময় আছে। আমরা অনুরোধ করি—আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত রিভিউ করেন।” তিনি এই সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক ও লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে। গত বুধবার আইসিসির সভা শেষে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বাংলাদেশ তাদের পূর্বের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকবে।
এরপর বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। টাইগারদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য দেশের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।