
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর সঙ্গে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার যুক্ত হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা চার দিনের ছুটি কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার সুবিধার্থেই এই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনের দিন শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের একটি বড় অংশ নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। তাদের যেন নির্বিঘ্নে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ এবং দায়িত্ব পালন করতে সুবিধা হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নির্বাহী আদেশে এই ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাধারণ ছুটির পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শিল্প এলাকায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ আরও দীর্ঘ সময় ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতেও নির্বাচনকালীন যাতায়াত ও ভোটদান সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা চার দিনের ছুটির কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ ভোটাররা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব ভোটার কর্মসূত্রে বা পড়াশোনার কারণে নিজ এলাকা থেকে দূরে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এই ছুটি বাড়তি সুবিধা এনে দেবে।
এছাড়া দীর্ঘ ছুটির কারণে নির্বাচনকালীন চাপও কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদারে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশ এই ছুটিকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ পাঠদান কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পাঠ্যসূচির ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঘোষিত এই টানা চার দিনের ছুটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সাধারণ ভোটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।