
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, বিজিবি একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমন্বয় সভায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, র্যাব, আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ডিজিএফআই, এনএসআই এবং বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই বিজিবি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি জানান, দেশের চার হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখার পাশাপাশি সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়া ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের সব ৩০০টি সংসদীয় আসনে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, দায়িত্ব পালনের জন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বিশেষ ব্রিফিং, আইনানুগ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা, আচরণবিধি ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসটিএক্স (STX) অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম, বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার জেলার বিশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা এবং একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা উপস্থিতিজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এর আগে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে বিজিবি মহাপরিচালক কক্সবাজার জেলা পরিদর্শন করেন।