
অধিকার ভাতা বন্ধের প্রতিবাদে বেনাপোল স্থলবন্দরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বন্দর কর্মচারীরা। এ কর্মসূচির ফলে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে বন্দরের ভেতরে ও বাইরে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং সাময়িকভাবে বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
‘স্থলবন্দর দাবি আদায় পরিষদ’-এর ব্যানারে বেনাপোল বন্দরের কার্গোভেহিকেল টার্মিনালের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে দেড় শতাধিক বন্দর কর্মচারী অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে অধিকার ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অফিস সময়ের বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের পারিশ্রমিক হিসেবে গত ২১ বছর ধরে বন্দর কর্মচারীরা অধিকার ভাতা পেয়ে আসছেন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এই ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কর্মচারীরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন এবং মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পাওয়া একটি ভাতা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও তারা সতর্ক করেন।
মানববন্ধনের কারণে এক ঘণ্টা বন্দরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়। এতে আমদানিকারক-রফতানিকারক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক ট্রাকচালক দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে আটকে থাকেন বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বন্দর ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর শাহাদত হোসেন, হাফিজুর রহমান, নাহিদ পারভেজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, দ্রুত অধিকার ভাতা পুনর্বহাল না করা হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের নিয়মিত কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।