
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং এর সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই নৌবহর মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকম জানায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই মার্কিন নৌবহর বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার অংশ হিসেবেই এই ‘বিশাল নৌবহর’ মোতায়েন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে করে ওই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের প্রতিক্রিয়ায় ইরান কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, রণতরী মোতায়েন করে ইরানের প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার দৃঢ় সংকল্পকে দুর্বল করা যাবে না। তিনি জানান, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে চালানো যেকোনো হামলাকে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর জবাব হবে কঠোর ও অনুতাপজনক। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আগের উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নতুন করে সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলবে এবং সে ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহ নিরপেক্ষ থাকবে না।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। যদিও দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তবুও আমিরাতের এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নৌবহরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিকূল পরিবেশে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে একটি মহড়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যকে এক ‘বারুদস্তূপ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামান্য ভুল সিদ্ধান্তই এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।