
ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা পোস্টার, শোডাউন ও উচ্চশব্দের মাইকিং এড়িয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে একটি ক্যাম্পেইন উদ্যোগ, যা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ৯টা ১৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের নির্বাচনী কৌশল ও এই উদ্যোগের পেছনের ভাবনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তাসনিম জারা।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাত্র দেড় দিনের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের সময় তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কেউ এসেছেন সন্তানের অনুরোধে, কেউ আবার বিদেশে থাকা সন্তানদের ফোন পেয়ে স্বাক্ষর দিতে এগিয়ে এসেছেন। এ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের আস্থাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
তাসনিম জারা লিখেছেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই শহরজুড়ে পোস্টারের ছড়াছড়ি দেখা যায়, যদিও নির্বাচন কমিশন পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পোস্টারের জঞ্জাল ও উচ্চশব্দের মাইকিং তাঁকে বরাবরই বিরক্ত করত। সে কারণেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজে পোস্টার লাগাবেন না এবং শব্দদূষণমূলক প্রচারণা করবেন না।
তিনি স্বীকার করেন, শুরুতে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ছিল। অনেক ভোটারই ভালোবাসা থেকে অভিযোগ করেছেন—পোস্টার না থাকায় তারা নিশ্চিত ছিলেন না তিনি আদৌ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন কি না।
এই বাস্তবতা থেকেই প্রশ্ন আসে—দাপট দেখানো প্রচারণা ছাড়াও কি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব? তাসনিম জারা লিখেছেন, মানুষ আসলে ভোট দেয় বিশ্বাস থেকে, বড় মিছিল বা মাইকিংয়ের শব্দে নয়। পরিচিত কোনো মানুষের আন্তরিক ফোনকল বা ব্যক্তিগত সুপারিশ হাজারো পোস্টারের চেয়েও বেশি কার্যকর।
এই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’। এই ক্যাম্পেইনে সমর্থকদের ‘ক্যাম্পেইনার’ হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রথম ধাপে পোর্টালে প্রবেশ না করেও সমর্থকেরা পরিচিতজনদের ফোন করে সমর্থন চাইতে পারবেন। পরে অনলাইনে জানানো যাবে কতজনের সমর্থন সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং সেখান থেকেই ভোটার স্লিপ বা ইশতেহার পাঠানো যাবে।
তাসনিম জারা মনে করেন, এই মডেল সফল হলে রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা হতে পারে। তাঁর ভাষায়, পোস্টার, শোডাউন ও কোটি টাকা ব্যয়ের রাজনীতি ছাড়াও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ের উদাহরণ তৈরি হলে ভবিষ্যতে আরও যোগ্য ও সৎ মানুষ রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত হবেন।
তিনি লিখেছেন, এই উদ্যোগে মানুষের সমর্থন শুধু একটি ভোট নয়, বরং নতুন রাজনীতির মডেল কার্যকর কি না—তার প্রমাণও। সময় স্বল্প উল্লেখ করে তিনি ঢাকা-৯ এলাকার মানুষদের এবং তাদের পরিচিতদের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।