
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাসনিম জারা ভোট চাইতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ফুটবল প্রতীক নিয়ে সরাসরি জনগণের কাছে গিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে তিনি মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী এলাকা সবুজবাগ–মাদারটেকে প্রচারণা চালানোর সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তাসনিম জারা। এ সময় তিনি বলেন, জনগণের কাছ থেকে যে পরিমাণ ভালোবাসা ও সাড়া পাচ্ছেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
তাসনিম জারা বলেন, “আমরা একদম রাস্তায়, বাজারে, মানুষের উঠানে গিয়ে কথা বলছি। তাদের কথা শুনছি, সমস্যার কথা জানছি এবং জনপ্রতিনিধির কাছে তারা কী প্রত্যাশা করে—সেগুলো বুঝতে চেষ্টা করছি। মানুষের খুব কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এলাকার মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সম্পর্কে তারা খোলামেলা আলোচনা করছেন। জনগণের এই আন্তরিক অংশগ্রহণ তাঁর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে বলেও জানান তিনি।
তাসনিম জারা বলেন, “মানুষ খুব মন খুলে কথা বলছেন এবং আমাদের খুব আপন করে নিচ্ছেন। এই ভালোবাসা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।”
গণসংযোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, অনেক ভোটার তাঁকে খাবার দিচ্ছেন, কেউ চকলেট দিচ্ছেন। ছোট শিশুরা এগিয়ে আসছে, কেউ কেউ তাদের সন্তানদের নিয়ে এসে কথা বলছেন, ছবি তুলছেন। প্রবীণরা দোয়া করে যাচ্ছেন—সব মিলিয়ে পুরো অভিজ্ঞতাটাই তাঁর কাছে খুব আবেগঘন ও ইতিবাচক বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “মুরুব্বিরা দোয়া করছেন, শিশুরা কাছে আসছে—এই ভালোবাসা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলছে।”
স্থানীয়ভাবে তাসনিম জারার এই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণাকে একটি ব্যতিক্রমী ও জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাদের কথা শোনার এই প্রচেষ্টা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনী প্রচারণার এই ধরণে তাসনিম জারা নিজেকে একজন সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গণসংযোগের এই ধারাবাহিকতা আগামী দিনে নির্বাচনী মাঠে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।