
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মহসিন নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি ‘এমপি সাহেব হিসাব দাও’ নামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।
নিজের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া এই ঘোষণায় মো. মহসিন বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে সরাসরি জনগণের সামনে উপস্থিত হয়ে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের পূর্ণ হিসাব তুলে ধরবেন। ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ, ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাই হবে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী মো. মহসিন একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে, সেই অর্থ দিয়ে কী কী উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কোন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়নি এবং কেন হয়নি—এসব প্রশ্নের জবাব তিনি সরাসরি জনগণের সামনে দেবেন। তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধির কাজ শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা নয়, বরং সেই প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন ও হিসাব জনগণের কাছে তুলে ধরা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে কেবল ক্ষমতার অবস্থানে বসে থাকতে চান না। জনগণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত জানানোই হবে তাঁর দায়িত্ব। এতে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
মো. মহসিনের ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। তাই এমপি হিসেবে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ইশতেহারে এ ধরনের জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক কর্মসূচির ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, এই উদ্যোগ তা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের মাঠে এমন উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা সময়ই বলে দেবে—তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে এই ঘোষণা ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।