
সামরিক ও প্রতিরক্ষাশিল্পে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত জায়গাতেই এই নতুন সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী বলেন, সামরিক শিল্পে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা উপকরণ উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এসব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি। এ লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বেজা ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যৌথভাবে কাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বেজার গভর্নিং বোর্ডে প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি জানান, মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেড) ভেতরে প্রায় ৮৫০ একর খালি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জমিটি গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রস্তাবিত ছিল। পরবর্তীতে সেই প্রকল্প বাতিল হলে জায়গাটি বেজার মাস্টারপ্ল্যানে সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে কী ধরনের পণ্য উৎপাদন হবে এবং কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। কোন ধরনের সামরিক উপকরণ উৎপাদন হবে, তা চাহিদা ও বাস্তবতার আলোকে পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।
বেজার গভর্নিং বোর্ডের সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দেশে একটি ফ্রি ট্রেড জোন বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য। আশিক চৌধুরী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে কার্যকরভাবে কোনো ফ্রি ট্রেড জোন নেই। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমির ওপর একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটির বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
এ ছাড়া কুষ্টিয়া চিনিকলকে বেজার সঙ্গে যুক্ত করে সেখানে একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশিক চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ একর আয়তনের এই চিনিকলে গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা বিদ্যমান থাকায় বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ব্যবহার উপযোগী হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পৌরসভার আওতাধীন এলাকাতেও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সুযোগ তৈরি করতে বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনা হবে। এতে পৌর এলাকায় অবস্থিত বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছে বেজা।