
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ব্যবহৃত ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আটক ইন্টার্ন চিকিৎসকের নাম রায়হান কবির ইমন। সোমবার বিকেলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে শনাক্ত করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই ক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অভিযুক্তকে হাসপাতালের পরিচালকসহ একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় এক পর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসককে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও কর্মচারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এই ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেক চিকিৎসক জানান, এমন ঘটনা হাসপাতালের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি, তবে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন বলেন, গোপন ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রাপ্তির পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণভাবে খোঁজখবর নিচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবিও উঠেছে।
ঘটনাটি ঘিরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।