
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট দল ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলার যুগিরহুদা গ্রামে এই সংঘর্ষ হয়। ঘটনার খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি বিএনপির সমর্থক আহতরা হলেন—মানিক মিয়া (৩৬), মুক্তি খাতুন মুক্তা (৩৫), রাকিব (১৯), রিক্তা খাতুন (২৬), হায়দার আলী বিশ্বাস (৬২), মিজানুর রহমান (৫৫), আসাদুল হক (৫২), রেমনি খাতুন (২০) এবং আরাফাত আলী (২৪)।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের আহত সমর্থকরা হলেন—ওল্টু, মাসুদ, বাদশা, আরিফুল ও ইমরান।
জামায়াতের অভিযোগ, রোববার দুপুরে তাদের নারী কর্মীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালানোর সময় বিএনপির সমর্থকেরা বাধা দেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে নারী কর্মীসহ পাঁচজন আহত হন বলে দলটির দাবি।
অন্যদিকে বিএনপির দাবি, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছিলেন এবং ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে শপথ করানোর অভিযোগও তোলা হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে জামায়াতের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুরুষ কর্মীদের ডেকে এনে হামলা চালান। পরে বহিরাগত লোকজন দফায় দফায় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল দিয়ে হামলা চালায় বলে বিএনপির অভিযোগ।
আহতদের দেখতে চুয়াডাঙ্গা–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী এলাকার শান্ত পরিবেশ পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করা হচ্ছে। জামায়াতের হামলায় নারীসহ বিএনপির নয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির হামলায় নারীসহ ছয়জন জামায়াত সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আফরিনা ইসলাম জানান, বিকেল পাঁচটার পর নয়জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভর্তি করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হোসেন আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।