
বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ভোটকেন্দ্রিক আলোচনা। চায়ের দোকান কিংবা বাজারের পাশাপাশি প্রশাসনের কেন্দ্র সচিবালয়েও চলছে নির্বাচনি হিসাব-নিকাশ। নিত্যদিনের কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে কিংবা সাক্ষাতে আসা পরিচিতজনদের সঙ্গে অনেকেই নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে মতবিনিময় করছেন। এসব আলোচনায় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি ও গণভোট নিয়ে কথা হয়। কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে, কেউ আবার গল্পচ্ছলে মতামত দিয়েছেন।
শিক্ষা সচিবের একান্ত সচিব মো. রকিবুল হাসান বলেন, তার প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো নির্বাচনি পরিবেশ পুরোপুরি জমে ওঠেনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচন স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় ভোটের আগে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। তবে এবার এখনো তেমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সামনে পরিস্থিতি আরও সরব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ব্যানারে নারীর ক্ষমতায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান দেখেছেন। তার মতে, নারী নেতৃত্ব থাকলেও সমাজে সম্পত্তির ন্যায্য বণ্টনের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান না হলে প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা কঠিন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনছার আলী জানান, প্রতিটি দপ্তরে গণভোটের প্রচারের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তিনি আশাবাদী। অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে ভোটগ্রহণ নিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে ঘোষিত তথ্যের পার্থক্য তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।
ভূমি উপদেষ্টার তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, বহু বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে অনেকের মধ্যেই আলাদা উৎসাহ কাজ করছে। তার মতে, এবার ‘হ্যাঁ–না’ ভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটাররা দেশের কল্যাণে নিজেদের মতামত সরাসরি প্রকাশ করতে পারবেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভোটগ্রহণ নিয়ে নানা অনিয়মের কথাও উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদ বলেন, সব বিভাগে গণভোটের প্রচার সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ সভা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যেখানে ভোটের আগেই ব্যালট ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গণভোট যদি চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি প্রকৃত ভোটের চরিত্র হারাতে পারে। তার মতে, ভোটারদের জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
সচিবালয়ের এক লিফটম্যান জানান, গণভোটের ‘হ্যাঁ–না’ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তবে সচিবালয় ভবনগুলোতে বড় ব্যানার চোখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন জুলাই জাতীয় সনদে প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নির্বাচন-পূর্ব সময় পর্যন্ত সব সরকারি দপ্তরে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বার্তা সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।