
গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গাজীপুরের দুই শতাধিক ছোট ও সাব-কন্ট্রাক্টিং পোশাক কারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে শনিবার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত অধিকাংশ কারখানা বন্ধ রাখা হচ্ছে। যদিও বুধবার (৬ আগস্ট) ছিল সরকারি ছুটি, তবুও গ্যাস সংকটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ছুটি দিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শ্রমিক ও কারখানা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক কারখানা সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে সীমিত পরিসরে কয়েকটি সেকশনে কাজ চললেও অধিকাংশ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ রয়েছে।
টানা ছুটিতে শ্রমিকদের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করলেও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আয়ের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন তারা।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে কয়েক হাজার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ওষুধ ও প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানা সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
কারখানা মালিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সংকট অব্যাহত থাকায় সময়মতো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রপ্তানি আদেশ বা ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে জেলার প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ দুই শতাধিক কারখানায় টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানা বন্ধের জন্য শুধু গ্যাস সংকটকে দায়ী করা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, অতীতেও গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে স্বল্পমেয়াদি ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে দৈনিক প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘাটতির কারণে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ পাওয়া যাচ্ছে না এবং দিনের বেলায় উৎপাদন কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে।