
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেছেন, সামনের দিনগুলোতে জামায়াত-শিবির আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অনুপ্রবেশ করতে পারে।
বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তার এই প্রতিক্রিয়া আসে রাজধানীতে গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে জামায়াত-এনসিপি জোটের অবস্থান কর্মসূচি ও সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে।
রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো রাজনৈতিক দল, যারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়, তারা সাধারণত সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশ ও জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও দাবি করেন, সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে জামায়াত-এনসিপি জোটকে একটি ‘র্যাডিক্যাল ফোর্স’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ও প্রশাসন বাধা না দিলে সচিবালয়ের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারত। তবে এ বক্তব্য তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও দাবি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক জোটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এদিন রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে জামায়াত-এনসিপি জোটের নেতাকর্মীদের আটকে দেয়। পরে তারা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে কর্মসূচি শেষ করেন।