
দেশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে প্রকাশিত নতুন গণবিজ্ঞপ্তিতে ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বিধিমালার খসড়ায় বর্তমানের তুলনায় শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী শব্দদূষণের জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নতুন খসড়া বিধিমালায় এ শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিধিমালায় বিভিন্ন এলাকার জন্য সর্বোচ্চ অনুমোদিত শব্দমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবেল এবং মিশ্র এলাকায় সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দমাত্রা গ্রহণযোগ্য হবে। নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন কিংবা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। অনুমতি থাকলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং ব্যবহারকাল পাঁচ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
এ ছাড়া অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিক্রি, বাজারজাত, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নীরব এলাকায় কোনো ধরনের হর্ন বাজানো যাবে না। পাশাপাশি পটকা, আতশবাজি এবং শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন অন্যান্য কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্র ব্যবহার এবং বেলুন ফোটানো যাবে না। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ভারী নির্মাণযন্ত্র পরিচালনাও নিষিদ্ধ থাকবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ট্রাফিক সার্জেন্ট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে বিধিমালার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর।