
ইয়েমেন উপকূলসংলগ্ন লোহিত সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়ে ভারতের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এ ঘটনায় জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জন ভারতীয় এবং একজন ইয়েমেনের নাগরিক। ভারত সরকার ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের জন্য গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, এমএসভি ফাইজে নূরে অলিয়া নামের জাহাজটি ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত বন্দরনগরী হোদেইদাহ থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজটি ডুবে যায়।
হুতি বিরোধী ইয়েমেনি ন্যাশনাল রেজিট্যান্স ফোর্স (গার্ডস অব দ্য রিপাবলিক) জানায়, ইয়েমেনি কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ইয়েমেনের মোখা বন্দরে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানার পর সেটি উল্টে গিয়ে ডুবে যায়। তিনি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ইয়েমেনি কোস্টগার্ডের তৎপরতার প্রশংসা করেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
ভারত এই হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।