
সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ফুয়েগো থেকে নতুন করে তীব্র অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় দেশটির তিনটি জেলায় রেড অ্যালার্ট বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই, গ্যাস, লাভা ও কাদার ঢল অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা কনরেড (CONRED) জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১,৭০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
ফুয়েগোর অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সাকাতেপেকুয়েজ, এসকুইন্তলা এবং চিমালতেনাঙ্গো জেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই তিন জেলার প্রায় ২৯ হাজার মানুষ ছাইপাতের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কাদার প্রবাহ পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচের দিকে নেমে আসছে, যা আশপাশের জনপদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কাদার স্রোত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী ৭২ ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কনরেডের নির্বাহী সচিব ক্লাউডিন ওগালদেস ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির উৎস ঢেকে রাখা এবং ছাই থেকে শ্বাসযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। সোমবার সকালে বিকট শব্দের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাত মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। আগ্নেয়গিরি থেকে ঘন ধোঁয়া ও ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি গলিত লাভা ও পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহও নিচের দিকে নেমে আসে।
পরিস্থিতির কারণে এল পরভেনির ও লাস লাহিতাস গ্রাম থেকে শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগ্নেয়গিরির পাশ দিয়ে যাওয়া জাতীয় রুট-১৪ মহাসড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আশপাশের এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুনে ফুয়েগো আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং একটি পুরো গ্রাম ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে গুয়াতেমালা সরকার।