
দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ডিজিটাল প্রশাসন, শিক্ষকদের স্বচ্ছ বদলি, ই-লার্নিং, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
মাউশি জানিয়েছে, অধিদপ্তরকে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি (EMIS) আধুনিকায়ন, ক্লাউড মাইগ্রেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) চ্যাটবট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এমপিও, শিক্ষক তথ্য হালনাগাদ, শূন্যপদ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নিয়োগ ব্যবস্থাও সফটওয়্যারভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের উদ্যোগও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এসইডিপির আওতায় ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত শিক্ষার্থী কল্যাণ কর্মসূচিসহ ছয়টি নতুন স্কিম প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে ২১টি নতুন প্রকল্প এবং ১৮টি ধারণাপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ফ্রি ওয়াইফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ডিজিটাল লার্নিং এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা।
মাউশির কর্মকর্তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষা খাত স্মার্ট, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী রূপান্তরের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।