
অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং মানবিক দায়িত্ব। এতে যেমন রোগীর মনোবল বৃদ্ধি পায়, তেমনি পারস্পরিক ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধও আরও দৃঢ় হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখতে যেতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। একই সঙ্গে সাহাবিদেরও রোগীকে সান্ত্বনা দেওয়া ও সুস্থতার জন্য দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন।
আরবি:
لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ:
লা বা'সা, তাহুরুন ইন শা আল্লাহ।
অর্থ:
‘কোনো অসুবিধা নেই। ইনশাআল্লাহ, এই অসুস্থতা আপনার জন্য পাপমুক্তি ও পবিত্রতার কারণ হবে।’
এই দোয়ার মাধ্যমে রোগীকে মানসিকভাবে শক্তি ও সান্ত্বনা দেওয়া হয়। সহিহ বুখারির (হাদিস: ৫৬৬২) বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) রোগীকে দেখতে গিয়ে এ কথাগুলো বলতেন।
আরবি:
أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
উচ্চারণ:
আসআলুল্লাহাল আজিম, রাব্বাল আরশিল আজিম, আই ইয়াশফিয়াকা।
অর্থ:
‘আমি মহান আল্লাহ, মহান আরশের রবের কাছে আপনার সুস্থতা কামনা করছি।’
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কোনো রোগীকে দেখতে গিয়ে যদি এই দোয়াটি সাতবার পাঠ করা হয় এবং তার মৃত্যু নির্ধারিত না হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ তাআলা তাকে সুস্থতা দান করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩১০৬)
ইসলাম শুধু রোগীর শারীরিক চিকিৎসার ওপরই গুরুত্ব দেয় না; বরং তার মানসিক প্রশান্তি, সাহস এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা বৃদ্ধির প্রতিও গুরুত্বারোপ করে। তাই অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া, সুস্থতার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা একজন মুসলমানের উত্তম চরিত্রের পরিচায়ক। মহানবী (সা.)-এর এই সুন্নত অনুসরণ করলে সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হয়।