
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন অবরোধ প্রত্যাহার না করলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বহাল রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথও সম্পূর্ণ বন্ধ বা রুদ্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও ইরান অন্য কোনো নির্দিষ্ট নৌপথের নাম উল্লেখ করেনি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের এই বক্তব্য বাব আল-মানদেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরকে ঘিরেও ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এসব অঞ্চলে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রভাব রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়বে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
বিবৃতিতে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও তেহরানের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জাতীয় জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপের আলোচনা চলার মধ্যেই এই বার্তা দিয়েছে তেহরান। তাঁদের মতে, সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলা এবং নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই ইরান এমন কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেছে।