প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে হামাসমুক্ত গাজার শাসন
গাজা উপত্যকার যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন, নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের জন্য নতুন একটি প্রস্তাবিত কাঠামো প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ নামে ঘোষিত এই রূপরেখায় হামাসকে নিরস্ত্র করে গাজার শাসনভার একটি অরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে গঠিত বেসামরিক প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, গাজা বোর্ড অব পিস হবে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা। এতে আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির দায়িত্ব হবে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার কৌশলগত পরিকল্পনা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং পুনর্গঠন তহবিলের তদারকি করা।
রূপরেখায় আরও বলা হয়েছে, সাত সদস্যের ফাউন্ডিং এক্সিকিউটিভ বোর্ডের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। সম্ভাব্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর নীতিমালা বাস্তবায়ন এবং কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ।
এ ছাড়া গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড সরাসরি পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে। অন্যদিকে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা নামে একটি অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গাজার দৈনন্দিন বেসামরিক প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করবে। এই কমিটিতে হামাসের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকবে না বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স নামে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের কথাও বলা হয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে গঠিত নিউ গাজা পুলিশ ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে। ইন্দোনেশিয়া ও মরক্কোর মতো কয়েকটি দেশ পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তা করতে পারে বলেও রূপরেখায় উল্লেখ রয়েছে।
তবে নতুন পুলিশ বাহিনীর সদস্য নির্বাচন, প্রশাসনিক কাঠামোর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি নিয়ে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ফলে প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা সময়ই বলে দেবে।