প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার আবেদন পর্যালোচনায় ভারত সরকার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করছে ভারত সরকার। ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভারতের সংসদে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি কাঠামো ও প্রচলিত বিধি অনুসারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে সরকার জানায়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ কমিটির নজরে আনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে কমিটিকে জানানো হবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান দেশটির মানবিক নীতি এবং সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
ভারত সরকার আরও জানায়, তাদের দীর্ঘদিনের নীতিমালা অনুযায়ী, ভারতের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এ অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয় আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা ও আইনি কাঠামোর আলোকে পরিচালনার সুপারিশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন প্রেক্ষাপটে এগোতে শুরু করে।