প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
পার্বত্য অঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুতায়নে নতুন উদ্যোগ
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করতে তৃতীয় ধাপে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে অফ-গ্রিড সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এটি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নাকি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষার মানোন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণ সেখানে ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হওয়ায় অফ-গ্রিড সোলার ফটোভোল্টাইক (PV) সিস্টেম সবচেয়ে কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক পার্বত্য অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টি বাস্তবসম্মত কিনা তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছে মতামত চায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত বা ‘সবুজ পাতা প্রকল্প’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অনুমোদন পেলে এটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) আকারে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ২১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের সোলার বিদ্যুতায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি উপকারভোগীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও এখনও অনেক দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
সরকারের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যুৎবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতেই নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে