প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
গাজায় শান্তি চুক্তির পথে হামাস, অস্ত্র সমর্পণে সম্মতি
গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণের একটি যৌথ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইসরায়েল। তবে এ বিষয়ে এখনো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার হাতে আসা চুক্তির অনুলিপি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তদারকি পর্ষদের অনুমোদনের ভিত্তিতে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে অস্ত্র সমর্পণের বিস্তারিত রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
হামাসের প্রতিনিধিদলের সদস্য গাজী হামাদ জানান, আলোচনাটি অত্যন্ত জটিল ছিল এবং ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন না করে, তাহলে হামাসও চুক্তির বাধ্যবাধকতা পালন করবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্র সমর্পণের পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করবে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘টেকসই শান্তির পথে স্মরণীয় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অস্ত্র সমর্পণ সম্পন্ন হলে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন দায়িত্ব নেবে এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালন করবে।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে সব অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হবে। আন্তর্জাতিক তদারকি কমিটি পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো অস্ত্র ইসরায়েল বা অন্য কোনো অ-ফিলিস্তিনি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে না; জাতীয় কমিটিই অস্ত্রগুলোর একমাত্র রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে হামাস এই উদ্যোগে সম্মত হয়েছে। তবে চুক্তিটি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া নির্ভর করবে উভয় পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।