প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
নেপালে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত ৩, জারি কারফিউ
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দেশবাসীর প্রতি শান্তি, সংযম ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত রোববার ভারত সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা বহনকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে দুই ব্যক্তি নিহত হন। পরে বৃহস্পতিবার কারফিউ চলাকালেও পাশের সিরাহা জেলায় বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা তিনজনে পৌঁছেছে।
সংঘর্ষের পর সুনসারি এবং আশপাশের জেলাগুলোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, সরকার, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সহিংসতার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দেশটির সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।