
রংপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক আবেদনকারী। তাদের দাবি, সামান্য ভুল বা অসঙ্গতির অজুহাতে বারবার আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত অর্থ বা উৎকোচ দিলে একই আবেদন দ্রুত গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অফিসের কিছু কর্মচারী, আনসার সদস্য এবং অফিসের বাইরে অবস্থান করা কম্পিউটার দোকান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অসাধু চক্র হিসেবে কাজ করার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের একজন ভবেশ চন্দ্র রায় জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব কাগজপত্রে তার পূর্ণ নাম থাকলেও বিদ্যুৎ বিলে শুধু নামের একটি অংশ থাকায় কয়েকদিন ধরে তাকে ঘুরতে হয়েছে। পরে উপপরিচালকের সঙ্গে দেখা করার পর সমস্যার সমাধান হয়। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নিশি রানী রায়। তিনি বলেন, শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে পেশার ঘরে ‘পেশা নেই’ লেখা থাকায় আবেদন বারবার ফেরত দেওয়া হয় এবং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পাননি।
সরেজমিনে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি ফি পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ছোটখাটো ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পরে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে একই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন আবেদনকারী দাবি করেন, আনসার সদস্য ও অফিসের বাইরের কিছু দালালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যরা কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একইভাবে অফিসের বাইরে থাকা কম্পিউটার দোকানিরাও দাবি করেছেন, তারা কেবল আবেদনপত্র পূরণ ও কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজে সহায়তা করেন।
রংপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক জামাল হোসেন বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু অনিয়মের বিষয় চিহ্নিত করেছেন। যারা অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অফিসে বাইরের দালালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং হয়রানি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।