
জাপানের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার সর্বশেষ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে জানায়, ভূমিকম্প-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর তদন্তাধীন কয়েকটি ঘটনাও নতুন হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এদিকে ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সরকারের মুখপাত্র মিনোরু কিহারা জানান, বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে। মঙ্গলবার বিকেলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, যার ফলে কম্পনের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে কুমামোতো ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং রেল ও বিমান চলাচলও বিঘ্নিত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ হাজার ৮০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া প্রায় ৩৪ হাজার ৯০০টি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং প্রায় ১৫ হাজার বাড়িতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাশিমার একটি শপিং মলে ভূমিকম্পের পর গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইয়াতসুশিরোর একটি কাগজ কারখানায় চিমনি ধসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরেকটি কারখানায় ক্রেন দুর্ঘটনায় এক ভিয়েতনামি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রচণ্ড গরম, উচ্চ আর্দ্রতা এবং একের পর এক আফটারশকের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন আরও আফটারশক এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।
ভূমিকম্পের পর আরিয়াকে সাগর এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর তা শিথিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় না যাওয়ার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ২০১৬ সালের ভয়াবহ কুমামোতো ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও তাজা থাকায় নতুন এই দুর্যোগে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।