
চট্টগ্রাম ও ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব-৭। এসব অভিযানে মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, মঙ্গলবার ও বুধবার পরিচালিত এসব অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
র্যাব জানায়, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর তৈলারদ্বীপ ব্রিজ এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানোর সময় চট্টগ্রামমুখী একটি মোটরসাইকেলে থাকা মো. আজিজুল হককে আটক করা হয়। তবে আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারি পালিয়ে যান।
পরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নূর হোসেন বোরহানকে আটক করা হয়। তার বহন করা একটি ব্যাগ থেকে ৯ হাজার ৮১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফেনী সদর উপজেলার খাইয়ারা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্টে কক্সবাজারগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে লায়লা বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উত্তর চাম্বল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাঁচটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, ২৮ জুলাই ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পরিচালিত আরেক অভিযানে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ১৪ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা, ৯৯ বোতল ফেনসিডিল ও ৪৮ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানচালক মো. সোহাগকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে, জোরারগঞ্জে একটি ডেলিভারি ভ্যানে অভিযান চালিয়ে ৪৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার গোডাউন থেকে প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।