
বিশিষ্ট আনসারি সাহাবি হজরত আবু খায়সামা (রা.) ছিলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একজন প্রিয় সাহাবি। তিনি একাধিক যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর জীবনজুড়ে নবীপ্রেম, আত্মত্যাগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাবুক অভিযানের একটি ঘটনা তাঁর গভীর নবীপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইসলামের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
নবম হিজরিতে রোমান বাহিনীর সম্ভাব্য আগ্রাসনের খবর পেয়ে মহানবী (সা.) তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি নেন। সময়টি ছিল প্রচণ্ড গরমের মৌসুম এবং খেজুর সংগ্রহের সময়। দীর্ঘ ও কষ্টকর এই সফরের কারণে এটি সাহাবিদের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। তবুও অধিকাংশ মুমিন সাহাবি সব কষ্ট উপেক্ষা করে অভিযানে অংশ নেন।
বিভিন্ন কারণে সে সময় আবু খায়সামা (রা.) মদিনায় থেকে গেলেও তাঁর অন্তরে ছিল গভীর অস্থিরতা। একদিন তিনি নিজের বাগানে গিয়ে দেখলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাঁর দুই স্ত্রী তাঁকে শীতল ছায়া, ঠাণ্ডা পানি ও সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করে আরাম দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেই আরাম-আয়েশ তাঁর হৃদয়ে শান্তি আনতে পারেনি।
হঠাৎ তাঁর মনে জেগে ওঠে এক গভীর উপলব্ধি—এদিকে মহানবী (সা.) আল্লাহর পথে কঠিন সফরে কষ্ট সহ্য করছেন, আর তিনি আরামের মধ্যে অবস্থান করছেন। এই চিন্তা তাঁকে এতটাই নাড়া দেয় যে, তিনি আর এক মুহূর্তও বিলম্ব না করে উটে চড়ে তাবুকের উদ্দেশে রওনা হন।
তাবুকে পৌঁছে দূর থেকে তাঁকে দেখে মহানবী (সা.) বলেন, “হয়তো আবু খায়সামা আসছে।” কাছে পৌঁছানোর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আবু খায়সামা, তোমাকে মোবারকবাদ। ধ্বংসের উপকণ্ঠ থেকে তুমি বের হয়ে এসেছ।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৭১৭৫)
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আন্তরিক অনুশোচনা, দ্রুত তাওবা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা একজন মুমিনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। দুনিয়ার আরাম-আয়েশের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলের অনুসরণই একজন ঈমানদারের প্রকৃত সফলতা।
সাহাবি আবু খায়সামা (রা.)-এর এই ঘটনা আজও মুসলিমদের জন্য আত্মত্যাগ, দায়িত্ববোধ, ঈমানের দৃঢ়তা এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।