
জয়পুরহাটের Kalai Upazila উপজেলার একটি মাদরাসাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। Chandair Darul Ulum Dakhil Madrasa-এর এক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করলেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত উপস্থিত দেখিয়ে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবর্তে অন্য একজন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন বলেও জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সহকারী জুনিয়র মৌলভী Fuad Hossain-এর নির্ধারিত ক্লাসে তিনি অনুপস্থিত। তাঁর জায়গায় জাহিদ নামে এক ব্যক্তি পাঠদান করছেন। হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফুয়াদ হোসেনের নামে নিয়মিত উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পক্ষেই ওই ব্যক্তি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুয়াদ হোসেন ঢাকায় অবস্থান করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তবে মাদরাসায় তাঁর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও প্রতি মাসে বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় তিনি স্বল্প সময়ের জন্য এসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বাকি সময় তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন অন্য একজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের সবার জানা। ফুয়াদ মাসে একবার এসে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে চলে যান, আর বাকি সময় অন্য ব্যক্তি ক্লাস নেন।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, এমনিতেই শিক্ষার্থীসংখ্যা কমছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষক নিয়মিত অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার মান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাহিদ নামে পাঠদানকারী ব্যক্তি বলেন, ফুয়াদ ঢাকায় পড়াশোনা করছেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে তিনি কয়েক মাস ধরে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে তিনি কোনো নিয়োগ বা অনুমোদনের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
মাদরাসার সুপার হাফিজার রহমান দাবি করেছেন, ফুয়াদ হোসেন বর্তমানে এক মাসের ছুটিতে রয়েছেন। তবে ছুটির মধ্যেও হাজিরা দেওয়া এবং বেতন উত্তোলনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে Monsur Rahman, কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), বলেন—বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।