
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায়। ইরান-সমর্থিত Houthi Movement দাবি করেছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ঘোষিত নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে নতুন করে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুতিদের দাবি অনুযায়ী, ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি সৌদি তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয় Red Sea অঞ্চলে। এর মধ্যে এনসেলিয়া ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Saudi Press Agency। ট্যাংকারটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লায়লা ট্যাংকারে হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে। ইরান কার্যত Strait of Hormuz প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুট দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। কিন্তু এখন সেখানে হামলার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নির্দেশে তারা ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১২তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে। এতে পুরো অঞ্চলে সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় হুমকি। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ Bab el-Mandeb Strait প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। এই পথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হবে, যা পরিবহন সময় কয়েক সপ্তাহ বাড়িয়ে দিতে পারে এবং খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। চীন ও ভারতের উদ্দেশে যাওয়া কিছু ট্যাংকার মাঝপথ থেকেই ফিরে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, লোহিত সাগরে এই হামলা শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।